Blog

Keep up to date with the latest news
অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি

অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি

Spread the love

 

অ্যামাজন এবং ইতিহাস 

অনলাইনে পণ্য বিক্রি করার জন্য ১৯৯৪ সালে তৈরি হওয়া বৃহৎ একটি ই-কমার্স কোম্পানিই হলো অ্যামাজন কোম্পানি। এটি সিয়াটেল ভিত্তিক ফরচুন 500 ই-কমার্স কোম্পানি, যার প্রতিষ্ঠাতার নাম জেফ বেজোস। ১৯৯৪ সালে তৈরি হলেও এই কোম্পানিটি চালু ঠিক এর পরবর্তী বছর ১৯৯৫ সাল থেকে। কিছুদিন আগে জেফ বেজোস বিশ্বের প্রথম ধনী ব্যক্তি হওয়ার পর থেকে সবাই তার ব্যাপারে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। আমি জানি, কমবেশি সবাই আজকাল তার ব্যাপারে অবগত রয়েছেন। তারপরেও এই কোম্পানিটির পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে কিছু বলা যাক। অ্যামাজন তার যাত্রা শুরু করেছিল একটি অনলাইন বুক স্টোর হিসেবে। এরপর ধীরে ধীরে যোগ করতে থাকে ডিভিডি, মিউজিক, ভিডিও গেমস, ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্স ও কাপড় সহ আরো অনেক আইটেম। অনলাইন শপিং এ এত বেশি জনপ্রিয়তা অর্জনের ফলে অ্যামাজন কোম্পানি খুব দ্রুতই সাফল্য লাভ করে থাকে। কোম্পানির শুরু করার মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৯৯ সালে এই সাফল্য লাভ করার জন্য কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস কে “পারসন অব দ্য ইয়ার’ টাইটেলে টাইম ম্যাগাজিনে তার নামকরণ করা হয়। সত্যিই এটি অনেক বড় একটি অর্জন। 

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? 

মজার একটি ফ্যাক্ট হচ্ছে, কোন উৎসবে অথবা ঈদ বা পূজায় বন্ধুদের সাথে বা ফ্যামিলির সাথে কাপড় কেনাকাটা করাকেই কিন্তু মার্কেটিং বলে না, এটা আমাদের ভূল ধারণা। এটাকে বলা হয় শপিং। কোন প্রোডাক্ট প্রচার অথবা প্রমোট করার মাধ্যমে ওই প্রোডাক্টের ক্রেতা তৈরি করার যে প্রসেসিং মূল্পত সেটাকেই বলা হয় মার্কেটিং। কমার্সের স্টুডেন্ট রা অবশ্যই মার্কেটিং এর ব্যাপারে অবগত আছেন বলে আমি মনে করি। যে কোন ব্যবসার সাথে মার্কেটিং শব্দটি একেবারেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

কারণ মার্কেটিং ছাড়া আপনি কখনোই আপনার ব্যবসাকে জনসম্মুখ করতে পারবেন না। অনলাইন অথবা অফলাইন যেটাই হোক না কেন সব ধরনের ব্যবসাতেই মার্কেটিং এর দরকার রয়েছে। 

অফলাইনে যখন কোন প্রোডাক্টের প্রচারণা করা হয় বা প্রমোশন চালানো হয় তখন সেটাকে বলা হয় মার্কেটিং। অন্যদিকে সেই প্রোডাক্টটি কেই যদি অনলাইনের মাধ্যমে আপনি প্রচার করে থাকেন তাহলে সেটাকে বলা হবে ডিজিটাল মার্কেটিং। অনলাইনে যদি কেউ নিজের প্রডাক্ট অথবা সেবার প্রচারণা চালিয়ে যায় কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং যদি কেউ নিজস্ব প্রোডাক্ট অথবা সেবার জন্য করে থাকে তাহলে সেটাকে বলা হয় ইন্টারনেট মার্কেটিং। অন্যদিকে অনলাইনে যদি কেউ অন্য কোন ব্যক্তি, কোম্পানির বা প্রতিষ্ঠান এর কোন প্রোডাক্ট এর প্রচারণা বা প্রমোশন করে যায় তাকেই বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। 

সোজা ভাষায় বলতে গেলে আপনি যদি অনলাইনে নিজস্ব প্রোডাক্ট এর প্রচারণা না করে একই পদ্ধতিতে যদি অন্য কোন কোম্পানি বা ব্যক্তির কোনো প্রোডাক্ট এর প্রচারণা করে থাকেন তাহলে সেটিকেই বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

 

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অন্যের পণ্য প্রচার বা প্রমোশন করাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং  বলা হয়ে থাকে তা তো জেনেই গিয়েছেন। আসুন প্র্যাকটিক্যালি বোঝানো যাক।

উদাহরণস্বরূপ আপনি একটি মোবাইল কিনতে চাচ্ছেন। এতে আপনার প্রথম কাজ হবে আপনি কোন মোবাইলটি কিনতে চাচ্ছেন গুগলে যেয়ে সে মোবাইল টির সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ভাবে রিসার্চ করা। গুগোল এর সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে আপনি সার্চ করলেন “Best Smartphones Under 20,000”. তো সার্চ করার পর আপনি অনেক অনেক ব্লগ এবং আর্টিকেলস দেখতে পাবেন। যেকোনো একটিতে আপনি প্রবেশ করলেন বিস্তারিত পড়ার জন্য। একের পর এক মোবাইল আপনি দেখতে লাগলেন। প্রতিটি মোবাইলের পাশেই ডেসক্রিপশনে সেই মোবাইলটি সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং ইনফরমেশন অবশ্যই দেওয়া আছে। আপনি কাপড়ে মোবাইলটির সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ধারণা পেলেন যে এই মোবাইল টিতে আপনি কি কি পাচ্ছেন। ধরুন আপনার একটি মোবাইল পছন্দও হয়ে গেল এবং আপনি এটি কিনতে চাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ ধরি মোবাইল টি হল “Redmi Note 10”. তো লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন প্রোডাক্ট এবং প্রোডাক্ট এর ডিস্ক্রিপশন এর নিচেই একটি বাটন দেওয়া আছে, যেই বাটন এ লেখা আছে “View On Amazon’. মানে এই বাটনে ক্লিক করলে আপনি ডিরেক্ট চলে যাবেন অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে চলে যাবেন যেখানে আপনি মোবাইলের সম্পূর্ণ তথ্য এবং প্রাইজ দেখার পর মোবাইল টি আপনি অর্ডার করে কিনতে পারবেন। এই যে আপনি অন্য একটি ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল পড়ে সেই ওয়েবসাইট দ্বারা অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে চলে গেলেন এবং সেখান থেকে মোবাইলটা আপনি কিনে নিলেন। এতে অ্যামাজন কোম্পানির প্রচুর লাভ হল এবং তারা কাস্টমারও পেল। যার কারণে অ্যামাজন কোম্পানি সেই ওয়েবসাইট কে (যে ওয়েবসাইট এর দ্বারা আপনি অ্যামাজন কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন)  নির্দিষ্ট পরিমাণে একটি কমিশন বা টাকা প্রদান করবে। সম্পূর্ণ এই বিষয়টিকে বলা হয় অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। 

 

আজ এ পর্যন্তই! আশা করি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্বন্ধে আপনাদের আর কোন কনফিউশন নেই এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি তাও সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পেরেছেন। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ব্যাপারে বোঝার ছলে আপনাদের এটাও বোঝা হয়ে গেল যে মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং কি। আমার উদাহরণগুলো যদি আপনি ভালভাবে বুঝতে পারেন তাহলে আপনার আর কোন সমস্যাই থাকবে না কোন কিছু বোঝার জন্য।

 

শাকিল রহমান 

সিনিয়র কনটেন্ট রাইটার 

টিম “LIKHBO”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *